খামেনি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান, নিহত ২৪

৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯:৫১

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। খবর আল জাজিরার।

গত রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও বিভিন্ন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) ভোরের আগে উত্তরাঞ্চলের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে সাতজন গিলগিতে প্রাণ হারান। অপরদিকে একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্কারদুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার হাজারো বিক্ষোভকারী কাশ্মীরের বিতর্কিত হিমালয় অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘ মিলিটারি অবজারভার গ্রুপ ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তানের (ইউএনএমওজিআইপি) কার্যালয় এবং স্কারদু শহরে অবস্থিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অফিসে হামলা চালায়। কর্মকর্তারা জানান, গিলগিতে বিক্ষোভকারীরা একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি স্কুল ও একটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

এ ছাড়া দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে খামেনিসহ ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর প্রাণ হারান।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

যৌথ হামলার জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। তাদের পাল্টা আঘাতে অন্তত ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলেও বহু ভবন ধ্বংস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য