সোমবার ২ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করল পাকিস্তান

২ মার্চ, ২০২৬ ২:৩৮:২৬

চলতি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্সের পর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাক সংবাদ মাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানাচ্ছে, জাতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের জানান, এখন থেকে পুরস্কার পুরোপুরি ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। শুধু নাম বা সুনামের ওপর কিছু মিলবে না বলে জানানো হয়। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু থেকেই ঠিক পথে ছিল না। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অল্পের জন্য হার এড়ায় দল। পরে যুক্তরাষ্ট্রকে হারায়। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ থাকায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু এশিয়া কাপে দেখা পুরোনো ভুল আবারও করে দল। শেষ পর্যন্ত হারে।

নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়ে পাকিস্তান সুপার এইটে ওঠে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডকে হারালে কিছুটা আশা জাগে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে জিতেও নেট রান রেট বাড়াতে পারেনি পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠে। সেখানেই শেষ হয় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান। বোর্ড কর্মকর্তারা সমর্থকদের হতাশার কথা স্বীকার করেন। তারা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরিমানা করেন। তারা মনে করিয়ে দেন, ভালো খেললে যেমন বোনাস আছে, তেমনি খারাপ খেললে শাস্তিও থাকবে।

গত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি কার্যকর। এই চুক্তিতে এ ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড় নেই। এ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা মাসে ৪৫ লাখ রুপি এবং আইসিসি আয়ের ভাগ থেকে ২০ লাখ ৭০ হাজার রুপি পান। বি ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা মাসে ৩০ লাখ রুপি এবং আইসিসি অংশ থেকে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ রুপি পান। সি ক্যাটাগরিতে মাসে ১০ লাখ রুপি এবং আইসিসি অংশ থেকে ১০ লাখ ৩৫ হাজার রুপি দেওয়া হয়। ডি ক্যাটাগরিতে মাসে ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি এবং আইসিসি অংশ থেকে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ রুপি দেওয়া হয়। ম্যাচ ফি আলাদা।

মাঠের পারফরম্যান্সে ফারহান ছিলেন দলের সেরা রান সংগ্রাহক। তিনি ৩৮৩ রান করেন। অন্য সিনিয়র ব্যাটাররা ব্যর্থ হন। সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা, বাবর আজম ও উসমান খান কেউই ১০০ রান করতে পারেননি। বোলিংয়ে স্পিনার উসমান তারিক ১০ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। বাকিরা ছিলেন গড়পড়তা। দলের দিকনির্দেশনাও প্রশ্নের মুখে। প্রধান কোচ মাইক হেসন দলের ভেতরে প্রভাবশালী। অধিনায়ক সালমান আলি আগা মাঠে নেতৃত্ব দেন। শাদাব খান এই থিংক ট্যাংকে যুক্ত ছিলেন। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে হেসনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক আছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বকাপের আগে ফখর জামানকে জানানো হয়েছিল যে তিনি শুরুর ম্যাচগুলোতে খেলবেন না। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ৮৪ রান করেন। এতে বোঝা যায়, শুরুতে দল কী হারিয়েছে। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাবর আজম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সালমান আলি আগা ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বকাপ শেষ। এখন বোর্ড কর্মকর্তারা পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করবেন। সামনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সূত্র- দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD