বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে তরুণীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমেনা আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমেনার পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, নিহত কিশোরীর মা বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে ৪ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে আরও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সকালে একই এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য