শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ভারতের যেকোনও উসকানির পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত পাকিস্তান: শেহবাজ

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৫:০৪
ফাইল ছবি

সম্ভাব্য যেকোনও ধরনের উসকানির জবাব কঠোরভাবে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ভারতের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কাশ্মীর সংহতি দিবসে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে তিনি বলেছেন, ভারতের যেকোনও উসকানির জবাব পাকিস্তান সমান শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, একই ময়দানে দেবে। খবর দ্য নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার বলেন, ভারত যদি কোনও ধরনের উসকানি দেয়, তাহলে পাকিস্তান তার জবাব দেবে সমান ও দৃঢ় শক্তিতে এবং যে ফ্রন্ট থেকে উসকানি আসবে, ঠিক সেখানেই তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর ভারত আবারও তার মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদার করেছে। ভারত তাদের আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের মদদে পরিচালিত যেকোনও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একই দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করবে, যেভাবে শত্রু যুদ্ধবিমান মোকাবিলা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে তা হবে সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’ কেবল পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার দক্ষতার বিজয় নয়, এটি কাশ্মীরি জনগণের ত্যাগেরও বিজয়।

তিনি আরও বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীর ইস্যু নতুন করে শক্তভাবে ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের মিথ্যা বয়ান কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং এটি পাকিস্তানের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ পুনর্ব্যক্ত করেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান তার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চলবে বলেও তিনি জানান। তিনি কাশ্মীরি জনগণের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— কাশ্মীরিরা জীবন ও সন্তান বিসর্জন দিতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করে না।

তিনি বুরহান ওয়ানি থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতা সৈয়দ আলী গিলানিসহ কাশ্মীর আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আসিয়া আন্দ্রাবি, ইয়াসিন মালিক ও মীরওয়াইজ উমর ফারুকসহ বিভিন্ন নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, নারী ও শিশুদের ত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, নিরীহ কাশ্মীরিদের ভোগান্তি ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করেছে।

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক অবস্থান স্মরণ করে শেহবাজ শরিফ বলেন, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘গলার শিরা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা আজও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, ভারত তার আধিপত্যবাদী নীতি ত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং কাশ্মীরিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুর তুলনা টেনে তিনি বলেন, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রকৃত মানদণ্ড। তিনি জানান, এই নীতির ভিত্তিতেই পাকিস্তান উভয় ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD