মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ণ

‘গেম অব থ্রোন্সের’ আদলে জামায়াত আমিরের ব্যানার নিয়ে তোলপাড়

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোন্স-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার। আর সেসব ব্যানার উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর বড়পোল ও চকবাজার এলাকায়। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সাংগঠনিক কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতারা।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সফর করছেন শফিকুর রহমান। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। কক্সবাজারের মহেশখালী, সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায়, সীতাকুণ্ডে ও চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসহ পাঁচটি স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

জামায়াত আমিরের এই সফরকে কেন্দ্র করে গেম অব থ্রোন্সের জনপ্রিয় সংলাপ ‘উইন্টার ইজ কামিং লিখে’ তার একটি ছবি সংবলিত ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। তিনি অগ্রভাগে তলোয়ার আকৃতির একটি দাঁড়িপাল্লা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, এমন ছবি রয়েছে ব্যানারে। আর ওপরের অংশ লেখা: ‘উইন্টার ইজ কামিং’। একেবারে নিচে কার্টেসিতে লেখা, ‘দাদু ফ্যান ক্লাব চট্টগ্রাম’।

ঘাঁটাঘাটি করে জানা গেছে, ‘উইন্টার ইজ কামিং’ হলো ‘গেম অব থ্রোন্স’-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় সংলাপ এবং হাউস স্টার্কের মূলমন্ত্র। সাধারণ অর্থে এটি কেবল ঋতু পরিবর্তনের কথা বললেও, এর গভীরতা অনেক বেশি। এই বাক্যের মাধ্যমে মূলত আসন্ন কোনো বড় বিপদ বা কঠিন সময়ের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। স্টার্ক পরিবারের সদস্যরা এটি ব্যবহার করে নিজেদের এবং অন্যদের মনে করিয়ে দিতো যে, সুসময় বা আরামের দিন চিরস্থায়ী নয়; তাই প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত।

সিরিজের প্রেক্ষাপটে এর একটি অতিপ্রাকৃত অর্থও রয়েছে। এটি মূলত উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা রহস্যময় এবং ভয়ংকর শত্রু ‘হোয়াইট ওয়াকার’দের আগমনের সংকেত দেয়, যা পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বর্তমান সময়ে এই বাক্যটি পপ-কালচার ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনেও একটি শক্তিশালী প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি এখন যেকোনো বড় ধরণের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা বা সামাজিক সংকটের পূর্বাভাস দিতে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংক্ষেপে, এটি একটি জীবনদর্শন যা আমাদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সজাগ ও ধৈর্যশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়।

এ অনুযায়ী ধারণা করা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাউস স্টার্কের সদস্য, যারা আসন্ন ‘উইন্টার’ সম্পর্কিত সতর্কবাক্য উচ্চারণ করছে এবং নিজেদের ভয়ঙ্কর শত্রু ‘হোয়াইট ওয়াকার’দের আগমন ও তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতির সংকেত দিচ্ছে। কেননা এই শীতে হোয়াইট ওয়াকারদের আগমনের পর ‘দুঃসময়’ শুরু হবে। এই দুঃসময়ের আগমন ঠেকাতেই হাউস স্টার্করা এই সতর্কবাক্য উচ্চারণ করে থাকে। 

তবে জামায়াত বা ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা বলছেন, এটা তাদের নিজেদের কর্মসূচি নয়। 

ব্যানারের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় গণমাধ্যমকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফ্যান পেজ থেকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল। এরপর এগুলো প্রিন্ট কেউ ব্যানার আকারে লাগিয়েছে। এটির সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আমিরে জামায়াতের ফ্যান বেইজ তৈরি হয়েছে। তারা হয়তো ক্রেইজ ব্যক্ত করতে গিয়ে এমন ব্যানার টানিয়েছে। এই ছবির সেইভাবে কোনো অর্থ নেই বলে আমি মনে করি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাদু ফ্যান ক্লাব লিখে সার্চ দিলে অনেকগুলো পেজ ও গ্রুপ পাওয়া যায়। সেখানেই এই ধরনের অসংখ্যা ছবি অনলাইনে ঘুরছে। নেটিজনরা সেগুলো শেয়ার দিচ্ছেন। কেউ কেউ সমালোচনাও করছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুনিনি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এমন কোনো ব্যানার লাগানো হয়নি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খবর নিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গেম অব থ্রোন্স হলো একটি জনপ্রিয় আমেরিকান টেলিভিশন ফ্যান্টাসি সিরিজ। এটি লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনের উপন্যাস সিরিজ অ্যা সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার অবলম্বনে নির্মিত। সিরিজটি এইচবিও চ্যানেলে ২০১১ সালে প্রচার শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে শেষ হয়।

এতে একাধিক প্রধান চরিত্র রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা ও সময়ের সঙ্গে বদলায়। তবে কিছু চরিত্রকে সাধারণভাবে নায়কের ভূমিকায় দেখা হয়। জন স্নোকে সবচেয়ে বেশি নায়কসুলভ চরিত্র ধরা হয়। তিনি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন। নাইটস ওয়াচের সদস্য হিসেবে তিনি উত্তর দিকের মানুষের রক্ষায় লড়াই করেন। ডেনেরিস টারগারিয়েন শুরুতে নিপীড়িতদের মুক্তিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। দাসপ্রথা বিলুপ্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবেই তার উত্থান ঘটে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD