বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
 

বাংলাভাষী মুসলিমদের নিপীড়নের বিষয়ে এবার ভারতকে চিঠি দিলো জাতিসংঘ

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:২১:২৫

এবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর জাতিগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের ‘কমিটি অন দ্য এলিমিনেশন অব রেসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন’ (সিইআরডি)। জাতিসংঘের এই কমিটি গত ১৯ জানুয়ারি জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। খবর দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) তালিকা থেকে পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মুসলিমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, আসাম সরকার কোনো বিকল্প আবাসন বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বেছে বেছে বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলোকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাঙনকবলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এই খড়গ নামিয়ে আনা হয়েছে।

আসামে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উস্কানিমূলক প্রচারণার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের ‘কমিটি অন দ্য এলিমিনেশন অব রেসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন’ (সিইআরডি)। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এই সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের এই কমিটি।

চিঠিতে কমিটি উল্লেখ করেছে, এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও ভারত সরকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত যে উত্তর দিয়েছে, তাতে মূল অভিযোগগুলো (বিশেষ করে এনআরসি-তে বৈষম্য) এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। ‘নন-অরিজিনাল ইনহ্যাব্রিট্যান্ট’ বা ‘অ-আদিম অধিবাসী’—এর মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার মাধ্যমে যেভাবে মানুষকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে যে, আসামের বাংলাভাষী মুসলিমরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং নদী ভাঙনের শিকার। অথচ, তাদেরকেই এখন নাগরিকত্ব প্রমাণের কঠিন পরীক্ষায় ফেলা হচ্ছে। বিদেশি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং ডি-ভোটার (সন্দেহজনক ভোটার) চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি এই সম্প্রদায়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD