বিএনপির নির্বাচনী জোট থেকে সরে একক নির্বাচনের ঘোষণা মান্নার
এবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডির পর এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে দাঁড়াল মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে নিজেদের জন্য ছাড় না পাওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের নেতারা জানান, মান্নার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ এ বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওই মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বিএনপি ও নাগরিক ঐক্যের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান আসেনি।
এরপর গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ‘একলা চলো’ নীতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এসময় ১২টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে নাগরিক ঐক্য। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন; প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ মোফাখখারুল ইসলাম রংপুর-৫; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জামালপুর-৪ এবং আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।
এ ছাড়া দলের অর্থ সম্পাদক শাহনাজ রানু পাবনা-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্বপন মজুমদার চট্টগ্রাম-৯, অধ্যাপক এনামুল হক চাঁদপুর-২, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল সালাম কুড়িগ্রাম-২, ডা. শামসুল আলম রাজশাহী-২ এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নির্বাচন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জয়পুরহাট-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের আরও একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে তিনি এখনও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।
মাহমুদুর রহমান মান্না এসময় বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। এই অধিকারকে কোনোভাবেই সংকুচিত হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শপথের মাধ্যমেই আগামী দিনের সংস্কার আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য প্রায় একই হলেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট। শুরু থেকেই নাগরিক ঐক্য বলে এসেছে- যে ঐক্যের ভিত্তিতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেই ঐক্য নির্বাচন পর্যন্ত থাকবে না। নির্বাচনে প্রত্যেক দল নিজ নিজ এজেন্ডা ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে যাবে।
তিনি বলেন, নাগরিক ঐক্যের নির্বাচনি ইশতেহার খুব শিগগির ঘোষণা করা হবে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে দলটি একমত এবং এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি আরও বলেন, দলটি একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এর অংশ হিসেবে আজ ১২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য