দিল্লির ঐতিহাসিক ফাইজি ইলাহী মসজিদকে লক্ষ্য করে মোদী সরকারের উচ্ছেদ অভিযান
এবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় মুসলিম ও তাদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগের মধ্যেই এবার দিল্লিতে ঐতিহাসিক ফাইজি ইলাহী মসজিদকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে ভারতের রাজধানীর তুর্কমান গেট এলাকার রামলীলা ময়দানে অবস্থিত ফাইজি ইলাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালায় দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অভিযান ছিল পরিকল্পিতভাবে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ও একটি মসজিদকে লক্ষ্য করে চালানো। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’ বলে দাবি করছে, তবে মসজিদ কমিটির বক্তব্য—যে জমিতে অভিযান চালানো হয়েছে তা ওয়াকফ বোর্ডের মালিকানাধীন এবং ১৯৪০ সাল থেকে বৈধ ইজারার আওতায় রয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানালে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় মুসল্লিদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে অন্তত পাঁচজন পুলিশ আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষও আহত হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযান ‘সফল’ হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে—যা মুসলিমদের চোখে তাদের ধর্মীয় অস্তিত্ব মুছে ফেলার আরেকটি পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট ফাইজি ইলাহী মসজিদ সংলগ্ন প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি পিটিশন দায়ের করে। মঙ্গলবার সেই পিটিশনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট পৌর কর্তৃপক্ষ, নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও ওয়াকফ বোর্ডকে চার সপ্তাহ সময় দিয়ে আগামী ২২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী শুনানির আগেই বুধবার ভোরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, যা প্রশাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মোদি সরকারের আমলে ‘বুলডোজার জাস্টিস’-এর নামে মুসলিম, মসজিদ ও সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিকে টার্গেট করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের পর এবার রাজধানী দিল্লিতেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হলো বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের ভাষ্য, এটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে তুষ্ট করার রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো,ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, আর রাষ্ট্রযন্ত্র তা রক্ষার বদলে উগ্রবাদী এজেন্ডার সহায়ক হয়ে উঠছে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য