শনিবার ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন ধাওয়া খাওয়া সেই তেলের ট্যাংকার রক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া

৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:২০:০৪

এবার বিতর্কিত সেই ‘বেলা-১’ ট্যাংকারকে সুরক্ষা দিতে একটি সাবমেরিনসহ অন্যান্য নৌযান পাঠিয়েছে রাশিয়া। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘বেলা-১’। ট্যাংকারটি দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তেল ভর্তি করতে ব্যর্থ হওয়ায় এটি খালি অবস্থায় আটলান্টিকে যাচ্ছে। মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে অনুসরণ করছে, যাতে কতিথ ‘অবৈধ তেল’ পরিবহন আটকানো যায়।

গত ডিসেম্বরে বেলা-১-এ মার্কিন বাহিনী ওঠার চেষ্টা করলে, জাহাজের ক্রু তা প্রতিহত করে। এরপর তারা রাশিয়ার পতাকা আঁকেন, নাম পরিবর্তন করে ‘মারিনেরা’ দেন এবং রেজিস্ট্রেশন রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ তেল পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলো আটকাচ্ছে, এ কারণে রাশিয়া উদ্বিগ্ন। কারণ রাশিয়ার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তারা ট্যাংকারটিকে কোনো পরীক্ষা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই রাশিয়ায় নিবন্ধন করার অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতি উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা ‘নিষিদ্ধ জাহাজ ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’। বর্তমানে জাহাজটি ইস্টার্ন আটলান্টিকে যাচ্ছে। রাশিয়ার মিডিয়া আরটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন কোস্ট গার্ড ট্যাংকারটিকে অনুসরণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ‘বেলা-১’ ট্যাংকারটিকে অনুসরণ করা শুরু করেছিল, তখন জাহাজটি কোনো দেশের পতাকা বহন করছিল না। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ওপর বিচারিক জব্দের আদেশও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা বেলা ১-কে নিষিদ্ধ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এটি তেহরানের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন-নির্ধারিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে ইরানের কালোবাজারি তেল পরিবহন করছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নতুন রুশ রেজিস্ট্রেশন এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অভিযান চালানো জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একবার জাহাজ বৈধভাবে কোনো দেশে নিবন্ধিত হলে সেটি সেই দেশের পতাকার সুরক্ষা পায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই দুটি বড় তেল ট্যাংকার আটকিয়েছে (স্কিপার এবং সেঞ্চুরি), যা অবৈধ তেল পরিবহনের অংশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরো ট্যাংকার আটকানো হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফ্লিটে এক হাজারের বেশি ট্যাংকার রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা অজানা এবং পশ্চিমা বীমা নেই।

অনেক ট্যাংকার তেলের পরিবহন গোপন রাখতে প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করছে। তারা রেডিও সিগনাল বন্ধ করে রাখে এবং কম নজরদারির এলাকায় তেল অন্য জাহাজে স্থানান্তর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্যাংকারগুলোর অধিকাংশই ১৫ বছরের বেশি পুরোনো। ক্রেমলিন এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি। তবে তারা দাবি অস্বীকার করেছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলেছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD