১৫ মাসেই কোরআনে হাফেজ ১১ বছরের সোলাইমান
অভাবের সংসার, বাবার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি ১১ বছরের শিশু সোলাইমান ইসলামকে। মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজ বানাইল গ্রামের এই শিশু এখন স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় আর অনুপ্রেরণার নাম।
এদিকে সোলাইমান উপজেলার ‘জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাবা সাইফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক। সংসারের টানাপোড়েন আর বাবার অসুস্থতার মাঝেও সোলাইমানের মেধা ও একাগ্রতা ছিল অটুট। সাধারণত পবিত্র কোরআন হিফজ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সোলাইমান তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মাত্র ১৫ মাসেই এই অসাধ্য সাধন করেছে।
ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা সাইফুল ইসলাম। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর অভাবের সংসারে সোলাইমানের এই সাফল্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। আমি চাই সে বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই।” সোলাইমানের এই কৃতিত্বে পুরো চন্ডীপাশা ইউনিয়নে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় সুধীসমাজ ও আলেমরা তাকে অভিনন্দন জানাতে ভিড় করছেন তার বাড়িতে।
মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, সোলাইমান শুরু থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। তিনি বলেন, সোলাইমানের মুখস্থ করার ক্ষমতা প্রখর। শিক্ষকদের পরিচর্যা আর ছাত্রের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই দ্রুততম সময়ে হিফজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু সোলাইমানের সাফল্য নয়, বরং পুরো মাদ্রাসার জন্য একটি গর্বের বিষয়।
এদিকে সোলাইমান প্রমাণ করেছে যে, মেধা আর একাগ্রতা থাকলে দারিদ্র্য বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়। স্থানীয়দের মতে, সোলাইমানের এই গল্প অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রাসাটি দীর্ঘ দিন ধরে আদর্শ মানুষ গড়ার যে কাজ করে যাচ্ছে, সোলাইমান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য