পুরোনো স্টেশনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন মামদানি

১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৮:১৯

এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জোহরান মামদানি। তিনি বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। জানা গেছে, নববর্ষের মধ্যরাতে নিউইয়র্ক সিটি হলে নয়, বরং ‘গিল্ডেড এইজ’ যুগে নির্মিত একটি পরিত্যক্ত ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে স্টেশনে ব্যক্তিগত এবং সীমিত পরিসরের এক অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন তিনি। এছাড়াও, পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নিবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এএফপি জানায়, নতুন বছরের প্রাক্কালে মধ্যরাতে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বেসরকারি অনুষ্ঠানে ‘ওল্ড সিটি হল স্টেশন’ নামের একটি সাবওয়ে স্টেশনে নতুন মেয়রকে শপথ পাঠ করাবেন। তিনি মামদানির বন্ধু এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ এই স্থানটি ‘প্রতিদিন আমাদের শহর সচল রাখেন এমন শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন’।

দুপুরে ভারমন্টের বামপন্থী প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সিটি হলের বাইরে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি বড় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তিনি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন। মামদানির শপথ বাক্য পাঠ করবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। এরপর বুধবার সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠান হবে, যেখানে তাকে শপথ পড়াবেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তারপর ব্রডওয়েতে একটি ব্লক পার্টির আয়োজন করা হবে।

জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এ স্থাপনা এমন এক শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় কিছু গড়ে দিত। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে বা সিটি হলের সুড়ঙ্গের নিচে আটকা পড়ে না থাকে, সে জন্য এ আয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপরের ভবন (সিটি হল) থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাঁদের লক্ষ্য হবে সে চেতনাকে ফিরিয়ে আনা।’

জোহরান আরও যোগ করেন, ‘নতুন সুযোগের এ যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য এবং শহরের এই মহান ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছি।’ ১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে চালু হওয়া ২৮টি স্টেশনের মধ্যে এটি একটি ছিল। পরে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্কের ‘ল্যান্ডমার্ক’ এবং ২০০৪ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মামদানি, ৩৪ বছর বয়সী একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট এবং সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য, ৫০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সহজলভ্যতা, যা অন্তর্ভুক্ত ছিল টিকিটমুক্ত বাস, সার্বজনীন শিশুশিক্ষা এবং ভাড়ার ওপর ফ্রিজ।  উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি ৩৪, একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট এবং নিউ ইয়র্ক স্টেটের সাবেক আইনপ্রণেতা, গত ৪ নভেম্বর মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য