তারেক রহমান ফেরায় ভারতের লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রভাবে, পাকিস্তান মনোযোগী নির্বাচনী হিসেবে নিকাশে

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৩:৩৯

অবশেষে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ইংরেজি ও বাংলা ভাষার গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে, যেখানে তারেকের বক্তৃতা, পরিবারের সদস্যদের উল্লেখ এবং নির্বাচনি প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো প্রধানত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফোকাস করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীপদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস- ভারতীয় গণমাধ্যমের কভারেজে তারেকের প্রত্যাবর্তনকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রথম জনসভার বক্তব্য ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং ফার্স্ট পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে) শীর্ষক বক্তব্যকে মার্কিন মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেছে। সেখানে তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন।

ফার্স্টপোস্ট- পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বেশ কিছু আবেগঘন ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ১০ বছর আগে তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার প্রসঙ্গের সঙ্গে তারেক রহমানের এই বীরোচিত ফেরার তুলনা করা হয়েছে।

আনন্দবাজার- এছাড়া তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর পরিবারের আদরের বিড়াল ‘জেবু’-র দেশে ফেরার খবরটি পাঠকদের বেশ নজর কেড়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার ফোনালাপ এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর মায়ের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করার মুহূর্তগুলো আনন্দবাজার অত্যন্ত সবিস্তারে বর্ণনা করেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে তারেকের প্রথম জনসভায় ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান… অ্যা সেফ বাংলাদেশ’-এর মতো বক্তব্যকে ফোকাস করা হয়েছে। দ্য হিন্দুতে বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের বলে তারেকের বক্তৃতা, নির্বাচনের আগে ঢাকার প্রস্তুতি, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তারেকের ঢাকায় অবতরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। উইয়ন নিউজে তারেকের বক্তৃতায় ‘২০২৪-এর মুক্তি, হাদির ত্যাগ এবং ঐক্যের আশা’-এর মতো প্রসঙ্গ এবং প্রত্যাবর্তনের প্রথম ছবি তুলে ধরা হয়েছে। ফার্স্ট পোস্টে তারেককে মার্টিন লুথার কিং-এর ধাচে গড়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তেজনা এবং ১৭ বছর নির্বাসনের পর অবতরণের কথা। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ায় তারেকের বক্তৃতায় ধর্মীয় ঐক্য, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ, তারেক কে এবং ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তার প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ডন- পাকিস্তানি গণমাধ্যমের কভারেজ তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত এবং রাজনৈতিক দিককেন্দ্রিক। ডন পত্রিকায় তারেককে প্রধানমন্ত্রীপদের শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে, নির্বাচনের আগে ১৭ বছর নির্বাসন শেষ করে প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তার নির্বাসন শেষের কথা বলা হয়েছে। জিও নিউজে তারেককে রাজনৈতিক হেভিওয়েট হিসেবে উপস্থাপন করে, নির্বাসন শেষ এবং প্রধানমন্ত্রীপদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাবর্তনের ওপর ফোকাস করা হয়েছে। সামা টিভিতে তারেককে প্রধানমন্ত্রীপদের ফ্রন্টরানার হিসেবে দেখিয়ে, ১৭ বছর নির্বাসন শেষ করে প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য