শুটার ফয়সালকে পালিয়ে যেতে এবং আলামত সরাতে সহযোগিতা করেছিলেন তার মা-বাবা
এবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সল করিম মাসুদের মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর সাড় ৫টার দিকে র্যাব-১০ ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা অভিযুক্ত ছেলেকে পালিয়ে যেতে এবং আলামত সরাতেও সহযোগিতা করেছিলেন।
এদিকে র্যাবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার পর ফয়সালের গতিবিধির চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলার দিন রাতে ফয়সাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তাঁর বোনের বাসায় যান। সেখানে একটি ব্যাগ ফাঁকা জায়গায় ফেলে দিয়ে পুনরায় তাঁর ভাগনে জামিলের মাধ্যমে সেটি উদ্ধার করান।
ফয়সাল তাঁর ব্যবহৃত একটি ফোন ছাদ থেকে ফেলে দিলেও অন্যটি তাঁর মায়ের কাছে জমা দেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তাঁর আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করেন। ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে ছেলেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দেন। পরবর্তীতে এই দম্পতি নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে জুরাইন থেকে নতুন সিম কিনে কেরানীগঞ্জে ছোট ছেলের বাসায় আশ্রয় নেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শরিফ ওসমান হাদিকে সরাসরি গুলি করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ এবং তাঁর মোটরসাইকেল চালক সহযোগী আলমগীর শেখ ইতোমধ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


























মন্তব্য