রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ণ

আমরা দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি: জামায়াত আমির

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:৪৮:৩৮

এবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই, বরং রাজনীতিই সব নীতিকে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করবে। তিনি বলেন, মগজ ঠিক থাকলে গোটা শরীর ঠিকভাবে কাজ করে। ব্রেন যদি ঠিক না থাকে, শরীরের কোনো অংশ সঠিকভাবে কাজ করবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ব্যবসায়ীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুবিধা এবং কমফোর্ট জোন তৈরি করা সম্ভব হয়নি, এটাই বাস্তবতা। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এখন যা পারলাম না, তা কি আর হবে না?

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের টোটাল ডেভেলপমেন্ট দুইটা মোটা কাজ থেকে আসে। একটা বিভিন্ন পর্যায়ে ট্যাক্স। আরেকটা হচ্ছে বিদেশ থেকে আনা ঋণ সহায়ক। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও পে করে। আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও পে করে। শিল্পপতিরা কীভাবে ট্যাক্স পেয়ার, এটা আমার বলার দরকার নেই। কিন্তু ভিক্ষুক কীভাবে ট্যাক্স পেয়ার? সারাদিন ১০, ২০, ১০০ টাকা করে যেটা পায়, সন্ধ্যায় যখন কোনো পণ্য কিনতে যায়, তখন আপনার মতো, আমার মতো তাকেও দামের সঙ্গে কর দিতে হয়। বাচ্চাটা আজকে জন্ম নিয়েছে মা-বাবা আত্মীয়স্বজন তার জন্য যদি কিছু কিনতে যায়, ওখানেও কিন্তু ট্যাক্স পে করতে হয়। নিউবর্ন বেবিটাও কিন্তু ট্যাক্স পেয়ার। বিদেশ থেকে যে ঋণ ইন্ডাকশন করা হয় আজকে জন্ম নেওয়া শিশু আর ৮০ বছরের বৃদ্ধ সবার ওপর সমানভাবে এটা ডিস্ট্রিবিউট হয়।

তিনি আরও বলেন, যারা প্রান্তিক মানুষ যাদের এবিলিটি নেই, তাদের সন্তান স্কুলে যায় না, মাদ্রাসায় যায় না, যেতে পারে না, গেলে দুই এক ক্লাস পরে তারপরে জীবিকার তাগিদে কোথাও লেগে যায়। ছোট মানুষটা কাছে মা বাপকে সাহায্য করার জন্য তার মেধা এখানেই শেষ। অথচ তাদের মধ্যে হয়তোবা আগামী দিনের বড় কোনো অর্থনীতিবিদ লুকিয়ে আছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, হয়ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যে কাধে নেবে সেই চিফ এক্সিকিউটিভ এখানে লুকিয়ে আছে, কিন্তু সেতো তাকে অ্যাড্রেস করবে কে? এই দায়িত্ব হচ্ছে সমাজ এবং সরকারের উভয় জয়েন রেসপন্সিবিলিটি।

জামায়াতে আমির বলেন, অর্থনীতি নিয়ে আপনি আগাবেন কীভাবে? এই অর্থনীতিতে যেমন বিভিন্ন সরকারি মারপেচ আছে, লালফিতার দৌরাত্ম্য আছে। ঠিক তেমনিভাবে সেখানে অনেক দুর্বৃত্তপনাও আছে। তিনি বলেন, আমি জানি এই সরকারের সময়েও কিছু ব্রিলিয়ান মানুষ চলে এসেছে বিদেশ থেকে। তারা কিন্তু টাকা উপার্জনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আসেনি। দেশকে কিছু দেওয়ার জন্য এসেছেন। আমরা যদি এই আস্থাটা আমাদের ডায়াসপুরা গোটা দুনিয়ায় যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্কিল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে তাদের মনে তৈরি করতে পারি, তাহলে তারা এ দেশে ফিরে আসবে এবং তারা এই দেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষেত্রবিশেষে নেতৃ দিতে পারবেন।

শফিকুর রহমান বলেন, মসজিদের ইমাম নিয়োগ করতে গিয়েও সেখানে কিছু লেনদেন করা লাগে। এই সমাজ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে? এখন আমরা দুর্নীতি দমনের জন্য কি করি? আমরা দুর্নীতির পাতা অথবা ডাল ধরে টান দেই। কিন্তু মূল যে জায়গা রয়ে যায়, কাণ্ড যে রয়ে যায়। দুর্নীতি যারা করেন তারা নিজে অন্য জায়গায় গিয়ে দুর্নীতির শিকার হন এবং সেটা তিনি পছন্দ করেন না। তার মানে হচ্ছে সবাই দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। কিন্তু নিজের জায়গাটায় নিজে লোভ সামলাতে পারে না অথবা সিস্টেম তাকে বাধ্য করে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD