বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

৪০০ বছর ধরে জমা চাপ, ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে দুই জেলা

২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ৪:২৯:২৭
প্রতীকী ছবি

এবার বাংলাদেশের নিচে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের স্থায়ী নড়াচড়ার কারণে দেশের ভৌগোলিক কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ নড়াচড়ার ফলে ডাউকি, মধুপুর ও সিলেট লাইনমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস হলো মধুপুর ফল্ট।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ফল্টে প্রায় ৪০০ বছর ধরে চাপ জমে আছে। এই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজধানী ঢাকা এই ফল্ট থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাত্র ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে।

গত ২০০৭ সালে মধুপুর ফল্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি সিসমোগ্রাফ স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই যন্ত্রের কোনো হদিস নেই। ফলে মধুপুর গড় ও আশপাশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদী কেন্দ্রিক ভূমিকম্পের পর মধুপুর এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকার টাঙ্গাইলকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, যা তাদের অপ্রস্তুত রাখে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিত নির্মাণ ও সঠিক তদারকি থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।” এমবিএসটিইউ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে মধুপুর অঞ্চলে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নতুন যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD