রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

মানুষ টাকাকেই দেবতা ভাবছে, এ কারণেই সামান্য প্রকৃতিক দুর্যোগে আমরা কেঁপে উঠছি: রিজভী

২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ৬:৫০:১২

এবার রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, গ্রামের জমি বিক্রি করে ঢাকায় এসে ফ্লাট কিনছে। মানুষ অতিদ্রুত বড় লোক হতে চাচ্ছে। সেই বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত, সেই নদী, সেই পুকুর আর রাখতে চাচ্ছে না। টাকাকেই ভাবা হচ্ছে দেবতা। এ কারণেই আজ সামন্য প্রকৃতিক দুর্যোগে আমরা কেঁপে উঠছি। এজন্য আমরা বলছি, যার যে কাজ, যারা রাজনীতিবিদ, যারা রাজনীতি করছে তাদের ওপর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। এখানে অন্য কেউ যদি আসে ওই উপলব্ধিটা বুঝবে না।

আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর ভাসানী ভবনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সদ্য প্রয়াত সাইফুল ইসলাম পটু’র আত্মার মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করে। রিজভী বলেন, মোগল আমলের কারওয়ান বাজার। এখানে নদী ছিল। এক সময় পাল তোলা নৌকা আসত। জাহাজ আসত। এই নদী আমরা রক্ষা করিনি, আমরা মনেই করিনি। তাড়াতাড়ি ভরাট কর, জায়গা দখল কর। এখানে কোনো প্লানিং ছাড়াই আমরা বাড়ি বানাব, ভাড়া দেবো অথবা বিক্রি করে টাকা আয় করব।

তিনি বলেন, গ্রামের জমি বিক্রি করে ঢাকায় এসে ফ্লাট কিনছে। মানুষ অতিদ্রুত বড় লোক হতে চাচ্ছে। সেই বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত, সেই নদী, সেই পুকুর আর রাখতে চাচ্ছে না। টাকাকেই ভাবা হচ্ছে দেবতা। এ কারণেই আজ সামন্য প্রকৃতিক দুর্যোগে আমরা কেঁপে উঠছি। এজন্য আমরা বলছি, যার যে কাজ, যারা রাজনীতিবিদ, যারা রাজনীতি করছে তাদের ওপর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। এখানে অন্য কেউ যদি আসে ওই উপলব্ধিটা বুঝবে না।

জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ‘আজকে সমাজে মূল্যায়ন হয় নানাভাবে। যারা খাল দখল করেছে…। আমি তখন ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি করি। মিরপুরের পাইকপাড়ায় থাকি। পকেটে পয়সা ছিল না। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে পরীবাগে আসতাম। সেখানে একটা খাল ছিল; এখন সেটা নেই। পাড় হয়ে আবার রিকশা নিয়ে নয়াপল্টন অফিসে আসতাম। বেশিদিন আগের কথা নয় ৯৭-৯৮’র দিকের কথা।

তিনি বলেন, এই ঢাকায় এতো বড় বড় নেতা, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- তবুও ধোলাইখাল বন্ধ করে দেওয়া হলো। এটাকে পুনঃখনন করে, পরিষ্কার করে পানিটা যাতে ক্লিন থাকে সেই ব্যবস্থাটা আমরা কেন করলাম না? মিরপুরের পাইকপাড়ায়-এই এলাকায় খাল ছিল, তা গিয়ে গাবতলী গিয়ে মিলত। সেটা এখন আর দেখি না। ভূমিদস্যু ও নগর প্লানার-এদের কাছে খাল, পরিবেশ, নির্মল বাতাস যেন শত্রুপক্ষ। শুধু ঢাকা নয়; সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা, তাদের কাছে সবই যেন শত্রুপক্ষ। এরা কেউ ভাবেনি ধোলাইখালটা রক্ষা করতে হবে, আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখতে হবে। এদের সবার টাকা দরকার।

এক-দেড় কাঠা পৈতৃক জায়গার ওপর তলার পর তলা করে করে দশ তলাও করেছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, কেন? আগে বাড়ির সামনে একটা বাগান থাকতো। সেটা এখন নেই। এখন একটা শিশু ফ্লাটে বন্দি জীবনযাপন করে।কই ইংল্যান্ড-আমেরিকায় তো তা হয় না। সেখানে তো কোনো খাল বা জলাধার বন্ধ করে দেওয়া হয় না। দেখতে দেখতে ঢাকার জলাধার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এরা ভূমিদস্যু, এরাই আবার রাজনৈতিক নেতা হচ্ছে, এরাই সমাজের অধিপতি হচ্ছে। এদের অনেকে ম্যাট্রিক পাশও করেনি। খাল, বিল, পুকুর এবং জায়গা দখল করে এখন বিরাট ফার্মের মালিক। এদের কাছে গিয়েই বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন- সমাজ এমনভাবে বিভাজিত হয়েছে।

এটা শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি করে গেছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, তা না হলে ঢাকা শহরে পঞ্চাশটির বেশি ক্যাসিনো থাকতে পারে? অথচ এর সঙ্গে জড়িতদের আওয়ামী লীগ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি বা বহিষ্কার করা হয়নি। তকী হত্যার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে ছিল, শেষ পর্যন্ত সে এমপি হয়ে যায়। অর্থাৎ খারাপ মানুষ, সন্ত্রাসী, ভূমি দখলকারী-এদেরকেই প্রটেকশন দেওয়া হলো। এদেরকেই টিকিয়ে রাখা হলো। যার কারণে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দশজন মানুষ মারা গেল। যতটুকু বিল্ডিং কোড রয়েছে, তাও মানা হয় না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আপনারা জানেন এই ঢাকা শহরে রাজউকের যে এলাকা সেখানেও ৯৫ শতাংশ অনুমোদনহীন বিল্ডিং তৈরি হয়। এখানে রাজউক বা অন্যান্যদের চোখ বন্ধ।

তার মতে, এই ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে আমাদের উপলব্দি করা প্রয়োজন। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের সবার উপলব্দি করার সময় এসেছে। তা যদি করতে না পারি, তাহলে একটি শুন্য গর্তে হারিয়ে যাব। আসুন আমরা বাসযোগ্য বাংলাদেশ এবং বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলি। সদ্য প্রয়াত সাইফুল ইসলাম পটুর কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, সাইফুল ইসলাম পটু সামগ্রিকভাবে জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা তার কী মূল্যায়ন করেছি। এখানে অনেকে আছেন যাদের জীবন কেটেছে আন্দোলন, সংগ্রামে। যারা রাজনীতিতে জীবন উৎসর্গ করার মতো ভূমিকা রেখেছেন। এদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা নাম করা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের বিষয়গুলো দলের শীর্ষ মহলে আমরা সেভাবে বলি না। এরা কিন্তু পাড়ার বখাটে ছেলেও নয়। তাদের স্টুডেন্ট এবং রাজনৈতিক দুটি ক্যারিয়ারই আছে। তাদের যদি মূল্যায়ন না করি তাহলে চেতনা সম্পন্ন অনেক নেতৃবৃন্দকে হারাব।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD