শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ণ

লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে হস্তান্তরিত

১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১:০১:৩৭

এবার চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার কাছে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। গত সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে চুক্তির স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল আগামী ২২ বছর ধরে পরিচালনা করবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি প্রখ্যাত লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান, মেডলগ।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মেডলগের স্থানীয় অংশীদার, মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, এর মধ্যে কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং মেডলগের কর্মকর্তাবৃন্দর উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নিকটস্থ স্থানে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁও টার্মিনাল। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। মেডলগ কোম্পানি তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় টার্মিনালের বার্ষিক পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা এক লাখ ৬০ হাজার কনটেইনারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটি মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি আনতে বার্জ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও বিশেষায়িত যানবাহন ব্যবহার করবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহণে সময় সাশ্রয় হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরো শক্তিশালী হবে। মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত বলেন, ‘পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বৃদ্ধি ও লজিস্টিক দক্ষতায় নতুন মান স্থাপনের বিপুল সম্ভাবনা ধারণ করে। মেডলগের গ্লোবাল স্কিলস কাজে লাগিয়ে এবং আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারব এবং অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারব।’

অন্যদিকে একই দিনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হলো চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৩০ বছরের মেয়াদি কনসেশন চুক্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে এই টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। মোট ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের বৃহৎ সরকারী-বেসরকারি অংশীদারি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনাল এবং তাদের স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেসকে চুক্তির কাগজ প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখন আমাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সঠিক সময়। চট্টগ্রাম একটি নদী ও ফিডার বন্দর হওয়ায় লজিস্টিকের খরচ বেশি। প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে আমাদের এমন অবকাঠামো প্রয়োজন, যা দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই টার্মিনাল সেই লক্ষ্য পূরণ করতে সহায়তা করবে।’ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেন, ‘বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা অনেক দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ঘটালে বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য বন্দরের সেবা আরও নির্ভরযোগ্য হবে। মেয়ার্স্কের মতো অভিজ্ঞ অপারেটরের আগমন আমাদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধানে সহায়তা করবে।’

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রকল্প প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে পিপিপি এখন কেবল কাগজে নয়, বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আমরা একটি বিশ্বমানের টার্মিনাল ও পোর্ট প্রাপ্তির পথে রয়েছি এবং এর জন্য সরকারের কোনো ঋণ নিতে হয়নি। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।’

এপিএম টার্মিনালস চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের বাস্তবায়নে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় ইকুইটি এফডিআই ও অন্যতম বৃহৎ পিপিপি প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত। কনসেশন মেয়াদে মোট বিনিয়োগ ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। প্রকল্পের ফলে সরকারের কোনো ঋণ ঝুঁকি নেই। টার্মিনাল চালু হলে বছরে আট লাখ টিইইউ অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং সক্ষমতা অর্জিত হবে এবং সিপিএ রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে সরাসরি আয় পাবে। অন্যদিকে সুইস কোম্পানি মেডলগ পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) জন্য ২২ বছরের কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করবে। টার্মিনালের বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এক লাখ ৬০ হাজার টিইইউতে উন্নীত হবে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD