‘জনগণের সামনে শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর’ চান শহীদ ওয়াসিমের বাবা
ছবি: সংগৃহীত
এবার জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায় জনগণের সামনে কার্যকর চাইছেন অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারের পেকুয়ার নিজ বাড়িতে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের এমন চাওয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই বিচারে সত্যের প্রতিফলন হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। জীবিত থাকতে শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখতে চাই। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি।
এরপরই তিনি বলেন, অতি দ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে এনে জনগণের সামনে রায় কার্যকর করা হোক। সন্তান হারানোর বেদনা যে ভোগ করে, সে-ই বুঝতে পারে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ওয়াসিম আকরাম নিহত হন। চট্টগ্রাম কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম নগরীর চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকায় ওয়াসিমের পৈতৃক বাড়ি। ছেলের মৃত্যুর খবরে কাতার প্রবাসী শফিউল আলম দেশে ফিরে আসেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় পড়া শুরু হয় এবং দণ্ড ঘোষণার মধ্য দিয়ে বেলা ২টা ৫৪ মিনিটে রায় শেষ হয়। মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান; দুজনই বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মামলায় গ্রেপ্তার থাকা একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিকবার উল্লেখ করে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী সব অপরাধের পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সুপিরিয়র কমান্ডার বা সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

























মন্তব্য