প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

করোনা ভাইরাস বদলে দেয় ইবি শিক্ষার্থী নোমানের জীবন

১১ আগস্ট ২০২৫, ১:০৫:৪২

ছবি প্রতিনিধি, সংবাদবেলা

ইবি প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। এটি পৃথিবীতে এসেছে কারো জন্য অভিশাপ আবার কারো জন্য আশির্বাদের দূত হয়ে। নোমানের জীবনেও করোনা ভাইরাস আসে আশীর্বাদ হয়ে। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে পুরো বিশ্ব হঠাৎ করেই থমকে যায়, সবকিছু যেন হয়ে যায় উলটপালট। সেই সময়ে টিউশনগুলো চলে যাওয়ার কারণে দুশ্চিন্তায় পড়ে নোমান। কীভাবে চলবে তার শিক্ষাব্যয়। নানা দুশ্চিন্তায় দিন কাটতে থাকে তার।

হঠাৎ করেই নোমানের জীবনে আশার আলো হয়ে আসে ‘তাদিলুল উম্মাহ একাডেমি’। ২০২১ সালের প্রথম দিকে ‘তাদিলুল উম্মাহ একাডেমি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বাহিরে পড়ানো শুরু করেন নোমান। প্রথম দিকে খুব একটা সাড়া পায়নি। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নয় নোমান। দিনরাত চালিয়ে যান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ধীরে ধীরে সাফল্য আসতে থাকে তার। বাহিরের দেশে অবস্থানকারী প্রবাসী ও তাদের ছেলে-মেয়েদের অনলাইনে কুরআন শেখানোসহ বাংলা ইংরেজি পড়াতে থাকেন। এরপর থেকেই তার স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে থাকে। এভাবে চেষ্টা চালাতে চালাতে বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের মাসিক আয় লাখ টাকার বেশি।

বলছিলাম কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের কথা। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা রায়গঞ্জ উপজেলায়। বর্তমানে তাদিলুল উম্মাহ একাডেমিতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা আরবি, বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা নিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে নোমানসহ ৭জন শিক্ষক ও শিক্ষিকার পাশাপাশি একজন আইটি সাপোর্টারও রয়েছেন।

সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে নোমান বলেন, ২০১৫ সালের সময়টা ছিল আমার জন্য নতুন জীবনে পদার্পণ করার মতো। পরিবারের আর্থিক সমস্যা এমন পর্যায় এসে পৌঁছে যে, আমাদের দুই ভাই ও বোনসহ পরিবারকে চালানোর জন্য বাবার মাসজিদে ইমামতির বেতনটা যথাযথ ছিল না! কোন রকম টেনেটুনে সংসার চলছিল। আর এটি এমন একটি সময় যে সময়ে একদিকে পারিবারিক সমস্যা, অন্যদিকে পড়া-লেখা বন্ধ হওয়ার মত উপক্রম। পরিবার এমন সময় বলে দিলো আর পড়াতে পারবো না! যতটুকু পারছি এতটুকু নিয়ে কিছু করা যায় কিনা দেখ!

তিনি আরো বলেন, ঠিক এই সময়ে আমি টিউশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজে নেমে পরি। মাসে ৫০০ টাকার বিনিময়ে ২টা টিউশন শুরু করি। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিজ খরচে সিরাজগঞ্জ শহরে পড়াশোনা করি। নিজের চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না তারপর জীবনের প্রয়োজনে সহজ করে নিতে হয় বিভিন্ন উপায়ে। ২০১৯ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমাই দেশের সুনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায়। সে সময় ৮হাজার টাকা ঋণ করে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই। এরপর তামিরুল মিল্লাতে আমার নিজ প্রচেষ্টায় চলতে থাকে জীবন সংগ্রাম। একসময়ের সংগ্রাম বাস্তবে গিয়ে রূপ ধারণ করে তাদিলুল উম্মাহ একাডেমি। নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানই নোমানকে বদলে দিয়েছে জীবনের ধারা।

তরুণদের উদ্দেশ্যে নোমান বলেন, আমি সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কখনোই ভয় পাওয়া যাবে না, মনে রাখা উচিত বিশাল এই পৃথিবীতে আমাদের জন্য অবশ্যই অনেক বড় বড় সুযোগ রয়েছে। সেগুলোকে আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। তবে সব শেষ হয়ে গেছে ভেবে থেমে যাওয়া যাবে না। সৃষ্টিকর্তা সবার মধ্যেই একটা সম্ভাবনা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আমরা আমাদের নিজেদের সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে ইনশা-আল্লাহ সফলতা আশা করা যায়।

নোমানের স্বপ্ন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, নিজেকে অন্যের অধীন না করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নতুন কিছু করার প্রয়াস। ভবিষ্যতে বেকার তরুণদের পাশে দাঁড়ানোই তার লক্ষ্য। এছাড়াও ‘তাদিলুল উম্মাহ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংগঠনের তিনি বিভিন্ন প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ড পালন করে আসছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য