প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

তারুণ্যের সামরিক প্রশিক্ষিত শক্তিই হবে আমাদের প্রতিরক্ষা: মাহমুদুর রহমান

৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩১:৫৪

ছবি প্রতিনিধি, সংবাদবেলা

ইবি প্রতিনিধি: আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের প্রতি পরামর্শ তারা যেন তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। বিপদের সময় তারুণ্যের প্রশিক্ষিত শক্তিই হবে আমাদের প্রতিরক্ষা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আয়ু মাত্র কয়েক মাস। এই সরকারের পক্ষে মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচিত সরকারের প্রতি পরামর্শ থাকবে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার। তরুণদের মধ্যে আমি অসাধারণ পরিবর্তন দেখেছি। বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ইসলামী মূল্যবোধে তাদের দৃঢ়তা আমাকে আশাবাদী করেছে। বহিঃশত্রু হিসেবে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে পটেনশিয়াল শত্রু বিবেচনা করতে হবে। ভারত হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র, মায়ানমার বৌদ্ধ রাষ্ট্র। এই বাস্তবতায় আমাদের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে সাবধানে চলতে হবে। আমরা সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী নই, পারমাণবিক শক্তি নেই। তাই আমাদের জাতীয় ঐক্য ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, বিপ্লব ও অভ্যুত্থান ঘিরে বিতর্ক বহু জায়গায় দেখা যায়। একটি অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য কেবল শাসক পরিবর্তন। কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল শাসক পরিবর্তনের নয়, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য। বিপ্লব একদিনে সম্পূর্ণ হয় না। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমাদের লক্ষ্যগুলো এখনো পূরণ হয়নি। যতদিন না কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার হবে এবং সব ধরনের হুমকি থেকে মুক্তি পাবো ততদিন বিপ্লব চলমান থাকবে। এই বিপ্লবে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিলেও সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছে। কেউ যেন এমন কিছু না করে যাতে এই বিপ্লব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিপ্লবের বিপদ দুটি দিক থেকে আসতে পারে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রু। অভ্যন্তরীণভাবে সমাজে ফ্যাসিবাদের দোসর ও ভারতীয় দালালদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যারা বিপ্লব ব্যর্থ করতে চায়। বিপ্লবকে টিকিয়ে না রাখলে ইতিহাসে বিলীন হয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কখনো ফ্যাসিবাদের বা দিল্লির উপনিবেশে পরিণত করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড ওবায়দুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হক, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জিয়া পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান, গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. শহিদ মোহাম্মদ রেজোয়ান, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ.ব.ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, শাখা বৈছাআ’র সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট, শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান, ছাত্রদল আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, ইউনিয়ন সভাপতি নুর আলম সিদ্দিকী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা ও শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভার শুরুতে অতিথিদের আসন গ্রহণ, পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া করা হয়। জুলাই উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড শাহীনুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির শুরু হয়। র‍্যালিটি ডায়না চত্বর, প্রধান ফটক ও ফুটবল মাঠের সামনের রাস্তা প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।র‍্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন হল, বিভাগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করেন।

জুলাই উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের দেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য